ভাঙলো কোহলি-শাস্ত্রী জুটি; অনেক সাফল্য পেয়েছে, কিন্তু কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে পারেনি

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী :সোমবার নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেল। একই সঙ্গে অবসান হলো কোচ হিসেবে শাস্ত্রী আর অধিনায়ক হিসেবে কোহলির দায়িত্বের। খেলা শেষ হওয়ার পরেই তিনি উঠে দাঁড়ালেন। জড়িয়ে ধরলেন অন্যতম সেরা শিষ্যকে। দীর্ঘদিন ধরে যাদের রসায়ন ভারতীয় ক্রিকেটে বহুচর্চিত ছিল, সোমবার রাতের পর থেকে তা ইতিহাস হয়ে গেল।

কোহলির স্বপ্ন ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা জয়। কিন্তু শেষ প্রতিযোগিতায়ও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে কোহলিকে। শোনা যাচ্ছে, ওয়ানডে ক্রিকেটেও আর অধিনায়ক থাকবেন না কোহলি। ফলে সীমিত ওভারে নেতা হিসেবে বিশ্বকাপ জয় হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে তার কাছে। শাস্ত্রী প্রথমে টিম ডিরেক্টর এবং পরে পূর্ণাঙ্গ কোচ হয়ে ভারতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। পূর্ণাঙ্গ কোচ হয়ে আসার সময় তাকে আনার পেছনে সক্রিয় ভূমিকা ছিল কোহলির। সেই জুটি এবার ভেঙে গেল।
১৯৯২ সালের পর এই প্রথম ভারত কোনো বিশ্বকাপে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলল! সেই আসরে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে আগেই ছিটকে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল ভারত। তবে এবার যে এমন কিছু হতে পারে, সেটা কেউ স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি। ২০১২ সালের পর এই প্রথম ভারতীয় দল সীমিত ওভারের কোনো বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বে উঠতে পারল না। কোচ-অধিনায়ক হিসেবে কোহলি-শাস্ত্রী জুটি ভারত শুধু নয়, সারা বিশ্বেই আলোচিত।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

শাস্ত্রী টিম ডিরেক্টর হওয়ার পর থেকেই দুজনের সম্পর্ক গাঢ় হয়। এরপর অনিল কুম্বলে ভারতের কোচ হয়ে আসার পর কী হয়েছিল তা সবার জানা। কোহলির চাপেই সরে যেতে হয়েছিল কুম্বলেকে এবং কোহলির কথায়ই কোচ করে আনা হয়েছিল শাস্ত্রীকে। কিন্তু বারবার আশা জাগিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই জুটির সাফল্য খুব একটা বড় নয়। কোহলি-শাস্ত্রীর জুটিতে ভারত ইংল্যান্ডে গিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতেছে, অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে দুইবার হারিয়েছে, কিন্তু ক্রিকেটের আসল পরীক্ষা বিশ্বকাপে ভারত বারবার ব্যর্থ।

ধোনির নেতৃত্বে ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয় ছাড়া ভারতের ঝুলিতে আইসিসির কোনো প্রতিযোগিতায় আর সাফল্য নেই। ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা রানার্স আপ হয়। ২০১৫ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয়। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও তাই। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে যায় তারা। ২০১৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরে সেই সেমিফাইনালেই বিদায় নিতে হয়।
কোহলি-শাস্ত্রী জুটির সাফল্য বলতে ২০১৮ সালে স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নারহীন অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাঠে হারানো। ২০২০-২১ সালে অবশ্য পূর্ণশক্তির দলকেই হারিয়েছিল ভারত। ইংল্যান্ডে চলতি বছরে সিরিজে ২-১-এ এগিয়ে আছে ভারত। ম্যাঞ্চেস্টার টেস্ট বাতিল হওয়ায় সিরিজ সম্পূর্ণ হয়নি। বারবার ব্যর্থ হওয়ায় তাই এবার কোহলি-শাস্ত্রী জুটির লক্ষ্যই ছিল একটা বিশ্বকাপ শিরোপা। কিন্তু সেই লক্ষ্য সফল হলো না।

কোচ হিসেবে শাস্ত্রীর অধীনে ৪৩টি টেস্ট খেলেছে ভারত। জিতেছে ২৫টি এবং হেরেছে ১৩টিতে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৭৬টি ম্যাচের মধ্যে ভারত জিতেছে ৫১টি, হেরেছে ২২টি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ক্ষেত্রে ৬৪টি ম্যাচের মধ্যে জয় ৪২টিতে এবং হার ১৮টিতে। মোট ১৮৩টি ম্যাচে ১১৮টি জিতেছে ভারত, হেরেছে ৫৩টিতে। জয়-হারের অনুপাত ২.২২৬। কোহলি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ৫০টি ম্যাচে ভারতকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জিতেছেন ২৯টিতে, হেরেছেন ১৬টিতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

17 + eight =