‘বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম ও নেতৃত্ব অনুপ্রেরণা যোগায়’: কোবিন্দ

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:  বঙ্গবন্ধুর সংগ্রাম এবং নেতৃত্ব এখনো আমায় অনুপ্রাণিত করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপ্রেরণামূলক নেতৃত্ব, সুস্পষ্ট নৈতিক দৃঢ় প্রত্যয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের প্রতি ন্যায়বিচারের জন্য তার অদম্য দৃঢ়তা ছিল সত্যিকার অর্থে পট পরিবর্তনকারী। ফলস্বরূপ, বিশ্ব একটি মূল্যবান শিক্ষা পেয়েছে যে, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছাকে কোনো শক্তি দ্বারা দমন করা যায় না, তা যতই নৃশংস হোক না কেন’। গতকাল(১৬ই ডিসেম্বর) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিবশতবর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক বিশেষ শপথ বাক্য পাঠ অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন বক্তব্যে এ সব কথা বলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি শ্রী রামনাথ কোবিন্দ

বক্তব্যের শুরুতে ভারতীয় রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধা এবং সম্মান জানান সেদিনের সেই বাংলার কোটি কোটি লড়াকু স্বাধীনতাকামী মানুষদের। তিনি বিশেষভাবে নিপীড়িত, নির্যাতিত সেই সকল মা-বোনদের শ্রদ্ধা জানান যারা একাত্তরের যুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

এ সময়ে তিনি উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর বিশাল নেতৃত্বগুণ কিভাবে মুগ্ধ করেছিল ভারত-বাংলাদেশ নির্বিশেষে কোটি কোটি সাধারণ মানুষকে । তিনি যোগ করেন, ‘আমার মনে আছে যে, একজন যুবক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর নৈতিক সাহসে আমি অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম। অন্যান্য লাখো মানুষের মতো আমিও তার বজ্রকণ্ঠে এবং সেই সময়ে বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষের আকাঙ্খা বহনকারী উপলব্ধিতে বিদ্যুতায়িত হয়েছিলাম। আমার প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের মতো, আমরা একটি অত্যাচারী শাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিজয়ে উল্লসিত হয়েছিলাম এবং বাংলাদেশের জনগণের বিশ্বাস ও সাহসে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।’

ভারতীয় রাষ্ট্রপতি শ্রী কোবিন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিষয়ে বলেন,’ বঙ্গবন্ধুর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন একটি বাংলাদেশ যা শুধু রাজনৈতিকভাবে স্বাধীন নয়, বরং একটি ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রও বটে। দুঃখের বিষয়, জীবদ্দশায় তাঁর দর্শন বাস্তবায়িত হতে পারেনি। স্বাধীনতা-বিরোধীরা যারা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল, তারা বুঝতে পারেনি যে বুলেট এবং সহিংসতা এমন একটি ধারণাকে নির্বাপিত করতে পারে না যা মানুষের কল্পনাকে ধারণ করেছে’।

এ সময়ে তিনি উন্নয়নের প্রসঙ্গ বলেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত বাংলাদেশের পরিশ্রমী ও উদ্যোগী জনগণ বঙ্গবন্ধুর এই আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করছে’। ‘আমরা গত এক দশকে বাংলাদেশের প্রশংসনীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করেছি, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়নের সুযোগও তৈরি করেছে। ভৌগোলিক সুবিধা ও আপনাদের দেশের চমৎকার অর্থনৈতিক সাফল্য সমগ্র উপ-অঞ্চল এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মধ্যে একটি ক্রমবর্ধমান ধারণা রয়েছে যে, ঘনিষ্ঠ উপ-আঞ্চলিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং সংযোগ স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সোনার বাংলা গঠনের প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে’।
তার বক্তব্যে উল্লেখিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী, পারস্পরিক সহযোগিতা, উন্নয়ন বিষয়গুলি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী দিনে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক পারস্পরিক উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে সকলেই আশা রাখছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

13 + 3 =