সাঁওতাল পরগনা জেলার ১৬৬তম প্রতিষ্ঠার দিবস পালন

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিশির কুমার হাজরা, বীরভূম: বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি, ঝাড়খণ্ড ও সাঁওতাল কাটা পুকুর স্মারক সমিতির যৌথ উদ্যোগে বুধবার সাড়ম্বরে পালিত হল সাঁওতাল পরগনা জেলার প্রতিষ্ঠা দিবস ।ভারত সেবাশ্রম সংঘ দুমকা শাখার স্বামী নিত্যব্রতা নন্দ মহারাজ ও স্মারক সমিতির সভাপতি দীপপ্রজ্বলন এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা সমিতি ঝাড়খণ্ডের স্টেট সেক্রেটারি গৌতম চট্টোপাধ্যায় ,নব কুমার ঘোষ , প্রদীপ সাধু, সকিল খান,সুমন ঘোষ, বখশিশ হুসেন খান ,অজয় সিংহ , জেএমএম দলের ব্লক সভাপতি বিনোদ রানা ,বিজেপির রঘুনাথ দত্ত ,নিতাই ভান্ডারী ,অনিমেষ মণ্ডল ,কানাই পাল ,কার্তিক ঘোষ ,গাট্টু কানানিয়া, ধুর্যটি মাহানত ,বাবুলাল মোদি দীনবন্ধু সাহা ,অভিনন্দন মুর্মু,উপস্থিত ছিলেন ।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

বিশেষ অতিথি ও বক্তারা সাঁওতাল পরগনা জেলা প্রতিষ্ঠার উপর বক্তব্য রাখেন।বক্তব্য বলেছেন ইংরেজ সরকার ১৮ ৫৫ সালে বীরভূম জেলার পশ্চিম ভাগ জঙ্গল মহলের বিদ্রোহকে দমন করার পর ওই বছর ই সাঁওতাল পরগনাকে স্বতন্ত্র জেলা ঘোষণা করে ।প্রত্যেক বছর সাড়ম্বরে পালিত হয় জেলার প্রতিষ্ঠা দিবস ।

১৮ ৫৫ সালে বীরভূম জেলার জঙ্গল মহল এলাকায় মহাজনী শোষণ ,জমির খাজনার অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি ও রেল লাইন বসানর কাজের ইংরেজ ঠিকাদারের সাঁওতাল রমণীদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়।সিধু ,কানু চাঁদ, ভৈরব সহোদর ভাইয়ের নেতৃত্বে ওই আন্দোলনে সাঁওতাল ,পাহাড়িয়া ,ভূঁইয়া , ঘটওয়াল ,কুমোর ,কামার , খেতরি ,পর্ঘ ,জোলা বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর প্রান্তিক চাষিরা যুক্ত ছিল । সাঁওতাল বিদ্রোহ নামে খ্যাত ওই আন্দোলন গড়ে উঠে বর্তমান সাহেবগঞ্জ জেলার ভোগনাডিহিতে ।ওই সময় দেশের রাজধানী ছিল কোলকাতা ,আর বড় লাট ছিলেন সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আধিকারিক ।

ভোগনাডিহিতে আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করার জন্য সপ্তাহ ব্যাপী বৈঠক হয় ।বৈঠকে এক অংশ ইংরেজ শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার মত দেয়।অন্য একটি অংশ কোলকাতা গিয়ে লাট সাহেবকে নালিশ জানানোর পক্ষে মত দেয় ।শেষমেশ দ্বিতীয় পক্ষের মতকে গ্রহণ করা হয় । ভোগনাডিহি থেকে প্রথাগত হাতিয়ার নিয়ে চলা পথে কোলকাতা অভিমুখে রওনা দেয় ।রাস্তায় বিভিন্ন গ্রামে মহাজদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় ।আন্দোলনকারীদের দল অধুনা রানিশ্বর ব্লকের ময়ূরাক্ষী নদীর আমজোড়া ঘাট পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

সেই সময় নদীর দুই কুলে বন্যার জল উপচে পড়ছিল।আন্দোলন কারীদেরদল নদী পার করার সময় ইংরেজ সৈনিকের গুলিতে শহীদের মৃত্য বরণ করে ।রক্তে নদীর জল লাল হয়ে যায়। মৃত দেহগুলি দিগুলি গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বীরভূম জেলার সদর শহর সিউড়িতে ইংরেজ সৈনিক দের সংঘর্ষ হয় ।

আন্দোলনকারীদের গণকবর দিয়ে আন্দোলন সমাপ্ত ঘোষণা করে।অধুনা সাঁওতাল পরগনার আদিবাসী ও ভূমিপুত্রদের ভয় দেখানোর জন্য মহান যোদ্ধা সিধু কানুকে বন্দী বানিয়ে ভোগনাডিহি নিয়ে যায় ।ভোগনাডিহির বর্তমান শহীদ স্থলে বট গাছে ঝুলিয়ে সিধু-কানু দুই আদিবাসী নেতাকে হত্যা করে ।ওই বছর ই বীরভূমকে খণ্ডিত করে সাঁওতাল পরগনা স্বতন্ত্র জেলা ঘোষণা করা হয় ।

সেই সময় বীরভূম জেলার ডিএম ও এসপি সপ্তাহে তিন দিন সিউড়িতে প্রশাসনিক কাজ করতেন।আর ঘোড়ার পিঠে দুমকা পৌঁছে তিন দিন এখানকার প্রশাসনিক কাজ করতেন বলে জানা গিয়েছে। পরে ইংল্যান্ডের কোন শহরের আদলে দুমকাকে জেলার সদর শহর প্রতিষ্ঠা করা হয় । বর্ধমান ও বীরভূম থেকে উকিল, মোক্তার, ডাক্তার ,কেরানিদের নিয়ে এসে প্রশাসনিক কাজে বসান হয় ।সেই সময় এখান কার অধিবাসীদের বলা হয় এটা তোমাদের রাজ্য, তোমাদের দেশ ।

দীর্ঘ ৫৬ বছর সাঁওতাল পরগনা জেলা পশ্চিম বঙ্গের অন্তর্ভুক্ত ছিল ।তৈরি করা হয় স্বতন্ত্র ভূমি সংক্রান্ত আইন, নামকরণ করা হয় এস পি টি আইন ।ওই আইনে জমি কেনাবেচা নিষিদ্ধ করা হয় । তবে সাঁওতাল পরগনার বাঙালি অধ্যুষিত মৌজার প্রজারা ওই আদেশের বিরুদ্ধে কোর্টের দ্বারস্থ হয় ।ইংরেজ সরকার হেরে যায় ,এযাবৎ ওই আইন চালু আছে ।ইংরেজ সরকার প্রথা গত স্বশাসনের প্রধানের মাধ্যমে বর্ধিত খাজনা আদায় করাতে সফল হয় ।

সাঁওতাল পরগনা প্রতিষ্ঠার ১৬৬বছর পর ও জমির অবৈধ কেনা বেচা চালু আছে ।গ্রাম প্রধান অঞ্চল আধিকারিক ও রাজস্ব কর্মচারীর এজেন্ট রূপে কাজ করে ওই সব কাজ করে চলেছেন। যার প্রতিবাদ করার কোনও সাহসী নেতৃত্ব এখনও নেই বললেই চলে। ফলে আজ সিধু কানুর পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা বিপন্ন ।ঝাড়খণ্ড আলাদা রাজ্য গঠনের পর এখানে জমির অবৈধ হস্তান্তর ফুলে ফেঁপে বেড়ে গিয়েছে ।সভ্যতার ইতিহাসে সাঁওতাল বিদ্রোহের কথা বিদ্যালয়ের পাঠ্য বিষয়ে পড়ুয়াদের পড়াশোনা করা হলেও এই তথ্য বিরল বলে মনে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 3 =