কালিপুজোর আগেও লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না বীরভূমের শোলা শিল্পীরা

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিশির কুমার হাজরা বীরভূম : যুগের সাথে তাল মিলিয়ে মানুষ এখন নিজেদের পেশার পরিবর্তন করেছেন। যেমন গণপুর গ্রামের রহিত দাস স্বর্ণকারের কাজ শিখে সোনার দোকান খুলেছেন মল্লারপুর বাহিনা মোড়ে। দীপ্তিময় ভান্ডারী সেলুনের কাজ ছেড়ে জুতোর দোকান করেছেন গণপুর বাসস্ট্যান্ডে। তবে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যারা তাদের পেশার পরিবর্তন করতে পারেননি। পেশার পরিবর্তন করতে পারেননি, এ কথা বললে হয়তো ভুল হবে, কারণ তারা তাদের বংশ পরম্পরাক্রমে নিজেদের পেশাকে আঁকড়ে ধরে রয়েছেন।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

 

বীরভূমের খয়রাশোল, সিউড়ি, রাজনগর, রামপুরহাট ব্লকে কয়েকজন মালাকার সম্প্রদায়ের বাস, যারা বছরের পর বছর ধরে এই শোলা শিল্পের কাজ করে চলেছেন। কালিপুজোর সময় ডাকের সাজের চাহিদা সব থেকে বেশি থাকায় এই সময় এই সকল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সবথেকে বেশি কর্মব্যস্ততা লক্ষ্য করা যায়। তবে এই কর্মব্যস্ততাতেও ইদানিংকালে সেই ভাবে তারা লাভের মুখ দেখতে পাচ্ছেন না।

লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ার কারণ হিসাবে খয়রাশোল ব্লকের নিচিন্তা গ্রামের মালিপাড়ার শোলা শিল্পী অজিত মালাকার জানিয়েছেন, “বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা, ঝাড়খন্ড, বিহার সহ বিভিন্ন জায়গায় আমরা আমাদের এই ডাকের সাজের জিনিসপত্র সরবরাহ হয়ে থাকে। ইদানিং কাঁচামালের দাম বাড়লেও লকডাউন এবং করোনার কারণে আমরা জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে পারি নি। আগে এই সকল ডাকের সাজ বিক্রি করে লাভ অনেকটা থাকলেও এখন লাভের পরিমাণ একেবারেই কমে গিয়েছে। তবে পুজো এলে পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে একসাথে কাজ করতে ভালো লাগে।”

পুজোর আগে এই সকল পরিবারে কাজের ব্যস্ততা এতটাই থাকে যে সকাল থেকে পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে কাজে হাত লাগাতে দেখা যায় বাড়ির মহিলাদেরও। কেউ শোলা কেটে কারুকার্য করেন, কেউ আবার জরি, চুমকি রংবেরঙের আর্ট পেপার কাটেন। কেউ আবার আঠা দিয়ে রংবেরঙের এই সকল ডাকের সাজ সাজান-গোছান। তবে দিনরাত পরিশ্রম করেও এই কুটিরশিল্পে তেমন লাভের মুখ দেখতে না পাওয়ার কারণে এই সকল শিল্পীদের কথায় লক্ষ্য করা যায় হতাশার সুর। তা সত্ত্বেও তারা বছরের পর বছর ধরে বাঁচিয়ে রেখেছেন ‘বীরভূমের শোলা শিল্প’কে।

কালিপুজোর সময় যেমন এই সকল শোলা শিল্পীদের বাড়তি দু চার পয়সা বেশি রোজগারের তাগিদে দিনরাত এক করে পরিশ্রম করতে হয়, ঠিক তেমনি আবার এই সময় এই কুটির শিল্পের উপর নির্ভর করে এলাকার বেশ কিছু মানুষ কাজ করে অর্থ উপার্জন করে থাকেন। তবে বলাই বাহুল্য, দীর্ঘ দু’বছরের কাছাকাছি সময় ধরে করোনা সংক্রমণের কারণে পুজো পার্বণের বাজেট কমার পাশাপাশি কমেছে কাজ, কমেছে লাভের অঙ্ক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 2 =