রাজ্যে স্কুল খুললেও রামপুরহাট থেকে সাহেবগঞ্জ রুটে লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় অসুবিধার সম্মুখীন বীরভূমের স্কুলপড়ুয়া থেকে ও শিক্ষক শিক্ষিকারা

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিশির কুমার হাজরা : রাজ্য সরকারের সম্মতি ক্রমে মঙ্গলবার থেকে পুনরায় খুলল অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের নিয়ে স্কুল এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যদিকে আগেই চালু হয়েছে লোকাল ট্রেন। তবে এখনো পর্যন্ত বীরভূমের রামপুরহাট থেকে সাহেবগঞ্জ পর্যন্ত লুপ লাইনে কোনরকম লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় অসুবিধার সম্মুখীন স্কুলপড়ুয়ারা থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

 

বীরভূমের ঝাড়খন্ড লাগোয়া এই গ্রামের রাজগ্রাম এসআরআর বালিকা বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষিকা দূরদূরান্ত থেকে এসে থাকেন। তারা মূলত লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করেই স্কুলে আসেন। কিন্তু এই লাইনে এখনো পর্যন্ত কোন লোকাল ট্রেন চালু না, অথচ স্কুল খুলে যাওয়ার কারণে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বেশ কয়েকজন শিক্ষিকাকে স্কুলে পাঠদানের জন্য সুদূর রামপুরহাট থেকে টোটো করে স্কুলে পৌঁছাতে হচ্ছে। আবার কেউ রোজ যাতায়াত বন্ধ করে বাড়ি ভাড়া নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এর পাশাপাশি পড়ুয়ারাও এই সমস্যার সম্মুখীন। কারণ দূর-দূরান্তের যে সকল পড়ুয়ারা আগে লোকাল ট্রেনের উপর নির্ভর করে স্কুলে পৌঁছাতে তাদেরও বিকল্প পথ বেছে নিতে হচ্ছে। প্রত্যন্ত এই এলাকায় এমনিতেই বাস যোগাযোগ তেমন উন্নত না হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে তাদের টোটো অথবা অন্য কোন প্রাইভেট গাড়ি করেই স্কুলে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে তাদের কাছে সমস্যার পাশাপাশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়ছে।

এই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা হাসিনাতুল ফিরদৌস জানিয়েছেন, “আমরা আগে রামপুরহাট থেকে লোকাল ট্রেনে স্কুলে যাতায়াত করতাম। কিন্তু এখন স্কুল খুলে গেলেও এই রুটে কোন লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় আমাদের টোটো করে আসতে হচ্ছে। দূরে স্কুল হওয়ার কারণে এমনিতেই স্কুলের চার জন শিক্ষিকা ইতিমধ্যেই অন্যত্র চলে গিয়েছেন। বাকিরাও আর স্কুলে থাকতে চায়ছেন না।”

পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, “লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ার কারণে শিক্ষিকারা ছাড়াও সমস্যায় পড়ছেন পড়ুয়ারা। তবে তাদের থেকেও সমস্যাটা কিছুটা হলেও বেশি শিক্ষিকাদের। কারণ অনেকেই আছেন যারা দূর-দূরান্ত থেকে স্কুলে আসেন।”

স্কুলের আরেক শিক্ষিকা পারমিতা রায়, যার বাড়ী বোলপুর, তিনি জানিয়েছেন, “আমাকে বোলপুর থেকে যাতায়াত করতে হয়। আগে লোকাল ট্রেন চলাকালীন নিত্যযাত্রী হিসেবে যাতায়াত করতাম। এখন কেবলমাত্র এই রুটে লোকাল ট্রেন চালু না হওয়ায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র নির্ভর করতে হচ্ছে ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের উপর। কিন্তু এই ট্রেনে আসতে হলে আগের দিন না এলে উপায় নেই। যেই জায়গায় আগে প্রতিদিন যাতায়াত করতাম সেখানে এখন এখানেই থাকতে হচ্ছে। খুবই অসুবিধার সম্মুখীন আমরা।”

প্রসঙ্গত, রাজ্যজুড়ে অধিকাংশ রুটে লোকাল ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক হলেও এই রুটে এখনো পর্যন্ত লোকাল ট্রেন পরিষেবা স্বাভাবিক না হওয়ায় ইতিমধ্যেই স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ও স্থানীয় বাসিন্দারা রেল স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজারকে একটি ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। তবে সেই ডেপুটেশন জমা দেওয়া বেশ কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও পুনরায় এই রুটে লোকাল ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়া নিয়ে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

three + 16 =