একাত্তরের ইন্দো-পাক যুদ্ধ জয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে হুগলি নদীতে ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘বিজয় মশাল’ গ্রহণের বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান

ছবি-সন্দীপন দত্ত, নিউজ ইন্ডিয়া প্রেস
This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

 দেবব্রত সেনগুপ্ত:  গোটা দেশ জুড়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে উদযাপন  করা হচ্ছে ১৯৭১ সালের  ইন্দো-পাক যুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষ।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

 

১৬ ডিসেম্বর ২০২০, দিল্লিতে এই ‘বিজয় মশাল’ প্রজ্জ্বলিত করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার পর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নানা সময়ে এই ‘বিজয় মশাল’ নিয়ে যাচ্ছে তিন বাহিনী এবং দেশের মানুষকে ভারতীয় সেনাদের বীরত্বের কাহিনী শোনানোর মধ্যে দিয়ে দেশের প্রতি সেনাদের ত্যাগ, আনুগত্য এবং নিষ্ঠার প্রতি সচেতন করে তোলা হচ্ছে।

 

আজ প্রিন্সেপ ঘাটের নৌবাহিনী জেটি থেকে হুগলি নদীর ওপর নৌবাহিনী বার্জে করে বিজয় ‘বিজয় মশাল’ কে ঘুরিয়ে আনা হয় আইকনিক হাওড়া ব্রিজের সামনে থেকে।

ক্যাপ্টেন জয়দীপ চক্রবর্তী (নেভাল অফিসার ইনচার্জ, পশ্চিমবঙ্গ) কর্তৃক পূর্ণ সামরিক সম্মানের সাথে গ্রহণ করা হয় ‘স্বর্নিম বিজয় বর্ষ ভিক্টরি ফ্লেম’।

 

ভারতীয় নৌ বাহিনীর অফিসার মিত্র এবং অন্যান্য অফিসার ও নাবিকরা উপস্থিত ছিলেন, যারা ইন্দো-পাক যুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপস্থিত সকলকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে শোনান। এই অনুষ্ঠান উপলক্ষে উপস্থিত ছিলেন বায়ুসেনার উচ্চপদস্থ আধিকারিক রা, এছাড়া উপস্থিত ছিলেন গোরখা রেজিমেন্ট এর কিছু সেনা অফিসার।  সব মিলিয়ে এক অনবদ্য অনুষ্ঠানের সাক্ষী রইলো তিলোত্তমা কলকাতা।

ছবি-সন্দীপন দত্ত, নিউজ ইন্ডিয়া প্রেস
ছবি-সন্দীপন দত্ত, নিউজ ইন্ডিয়া প্রেস

 

প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আসে এক মর্মান্তিক দেশ বিভাজনের মধ্যে দিয়ে। কাতারে কাতারে মানুষকে উদ্বাস্তু করে দিয়ে ইংরেজ প্রশাসন ভারতবর্ষ থেকে আরেকটি দেশের জন্ম দেয়, যার নাম হয় পাকিস্তান ।

ধর্মের ভিত্তিতে এই বিভাজনে পাকিস্তানকে আবার দুটি অংশে ভাগ হতে হয়, বর্তমান পাকিস্তানের অংশটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় বর্তমান বাংলাদেশ কে পূর্ব পাকিস্তানের নাম।  ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হওয়া পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ বাঙালিরা লক্ষ করে দেখলেন, ধর্মগত দিক থেকে তারা পাকিস্তানের সাথে মিল হলেও ভাষাগত দিক থেকে এবং আরো অনেক ব্যবহারিক জীবনের দিক থেকে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন সত্ত্বা। অথচ তাদের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তানি রীতিনীতি এবং নিয়মকানুন। এখানে সর্বাপেক্ষা সমস্যা দেখা দেয় ভাষার ক্ষেত্রে।

মানুষের জীবনে ভাষা তার স্বকীয়তা এবং অস্তিত্বের তথা সাংস্কৃতিক উপস্থিতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়। পরিচয় হীন হয়ে যাবার মুখে বিপন্ন বাঙালি একাত্তরে ঘুরে দাঁড়ায় মুক্তিযুদ্ধ-র মাধ্যমে। শুরু হয় এক অসম যুদ্ধ। পশ্চিম পাকিস্তান তথা রাষ্ট্রশক্তি বনাম পিঠ ঠেকে যাওয়া সাধারণ বাঙালি।

এই ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে বাঙালির সবচেয়ে বড় সহায়ক হয়ে ওঠে ভারতীয় সৈন্য বাহিনীর সহায়তা। জন্ম নেয় বাংলাদেশ। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে এই বিপদ থেকে মুক্ত করতে ভারত বর্ষ শুধু সহায়তার হাত এগিয়ে দেয়নি, সরাসরি ইন্দো-পাক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

ভারতীয় পদাতিক সৈন্য যেমন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনা কে। ততোধিক ভূমিকা নেয় বিমান বাহিনী এবং নৌ বাহিনী।

ভারতীয় নৌ বাহিনীর প্রত্যক্ষ অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দরের পথ ধরে বহুদূর পর্যন্ত এগিয়ে যায় ভারতীয় সৈন্য। পাকিস্তানি বাহিনীর অস্ত্রশস্ত্র থেকে শুরু করে রসদের যোগান তো বন্ধ হয়ই। তাদের পালানোরও আর কোনো পথ থাকে না।

এদিকে পাকিস্তানের জ্বালানি তেলের পূর্ণ জাহাজগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার ফলে সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে পাকিস্তানের স্বাভাবিক অবস্থা। এমত অবস্থায় অসহায় হয়ে বাধ্য হয়ে তারা আত্মসমর্পণ করতে।

এই অনন্য সাধারণ সহযোগিতার মাধ্যমে পূর্ণতা পায় ভাষা আন্দোলন, সৃষ্টি হয় বাংলাদেশ।

এই যুদ্ধজয়ের গর্ব শুধু বাংলাদেশের নয় ভারতবর্ষেরও। সেই গর্ব এবং আনন্দের দিন সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে বিজয় মশাল প্রদক্ষিণ করানো হচ্ছে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর মাধ্যমে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

two × 1 =