বাড়বাড়ন্ত ওমিক্রনের! ফের বন্ধ হতে পারে স্কুল, কলেজ , ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

রাজ্যে আবারও স্কুল ও কলেজ বন্ধ হতে চলেছে? তা নিয়ে পর্যালোচনার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক কর্তাদের তিনি বলেন, ‘স্কুল-কলেজ খুলে রাখা হবে কিনা, তা নিয়ে রিভিউ করতে।’ বুধবার গঙ্গাসাগরে জেলার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে তিনি করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা করলেন। এরপরই তিনি নির্দেশ দিলেন প্রশাসনকে তৎপর হতে। রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে, ফের নতুন করে কিছু বিধি- নিষেধ জারি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিলেন তিনি। পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে পুনরায় স্কুল বন্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বুধবার গঙ্গা সাগরে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের এই বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন মমতা।

করোনা সংক্রমণ যদি বাড়ে, তাহলে আবার কিছুদিনের জন্য স্কুল- কলেজ বন্ধ করতে হবে। বুধবার প্রশাসনিক বৈঠক থেকে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য়মন্ত্রী মমতা। তিনি মণীশ জৈনকে নির্দেশ দেন, করোনা পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, তাতে খেয়াল রাখতে হবে। মমতা বলেন, ‘থার্ড ওয়েভ আসছে। ওমিক্রনও হচ্ছে। এই সময় স্কুল, কলেজ খোলা রাখা যায় কি না, তা দেখতে হবে।’ সামনেই মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা আছে বলেও উল্লেখ করেন মমতা।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “প্রয়োজনে ৫০% ওয়ার্ক ফ্রম হোম (Work From Home)। ৩ জানুয়ারি থেকে কোভিড বিধি পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে ৩ জানুয়ারি থেকে কলকাতায় কনটেনমেন্ট জোন (Containment Zone)। প্রয়োজনে কলকাতায় ওয়ার্ড ভিত্তিক কনটেনমেন্ট জোন। করোনা বাড়ছে, ওমিক্রন বেশি করে ছড়াচ্ছে। যাবতীয় সতর্কতা মানতে হবে, কোভিড বিধি পালন করতে হবে।’’

তিনি অন্যান্য সমস্ত করোনা বিধি আরোপ করার জন্য প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রশাসনকে। প্রয়োজনে ট্রেনের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার বার্তাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইসঙ্গে সরকারি দফতরে হাজিরার সংখ্যা ৫০ শতাংশ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। প্রয়োজনে লোকাল ট্রেন নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তবে গঙ্গাসাগর মেলার আগে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন আন্তর্জাতিক বিমানের যাত্রীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন আন্তর্জাতিক বিমানে আসা যাত্রীদের থেকেই ছড়িয়ে পড়ছে ওমিক্রন সংক্রমণ। তাই সে ক্ষেত্রে কোভিড বিধিতে কোনও বদল আনা যেতে পারে কি না, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন তিনি। যাদের করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, তারা সংক্রমণ নিয়েই বাড়ি চলে যাচ্ছে কি না, সে দিকেও নজর দিতে বলেন মমতা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ ইতিমধ্যে দেশের বুকে আছড়ে পড়েছে। বাংলাকে এবার সতর্ক থাকতে হবে। কোনওমতেই তা বাড়তে দিলে চলবে না।

সমস্ত বিধিনিষেধ আরোপ করে করোনা র তৃতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়া আটকাতে হবে। মমতা বলেন, করোনার তৃতীয় ঢেউ আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। তারপর ওমিক্রনও হাজির। এই ওমিক্রন আবার বেশি ছড়ায়। তাই করোনা যাতে ছড়িয়ে না পড়তে পারে, তার জন্য আগাম সতর্কতা জরুরি। তারপর আমরা বুস্টার ডোজ নিয়ে ভাবব।

এদিকে করোনার পাশাপাশি, রাজ্যে বাড়ছে ওমিক্রন আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, বিদেশে না গিয়েও সংক্রমিত আরও চারজন। রাজ্যে নতুন করে পাঁচজন ওমিক্রন পজিটিভ। এদের মধ্যে একজনের বিদেশ যাত্রার রেকর্ড থাকলেও, বাকি চারজন বিদেশে যাননি। এই চারজনের মধ্যে ২ জন কলকাতার, বাকি ২ জন দমদম ও হাওড়ার বাসিন্দা। রাজ্যের তরফে মোট ১০৭ জনের নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এর মধ্যে পাঁচজনের নমুনায় ওমিক্রন ধরা পড়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 + 13 =