দুই নারীর অসম লড়াইকে কুর্নিশ জানালেন মানবাধিকার সংস্থা

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিশির কুমার হাজরা,বীরভূম:  দুই নারীর অসম লড়াইকে কুর্নিশ করে তাদের হাতে নারী শক্তি সম্মান তুলে দিল রোটারি ক্লাব অফ টেগোরল্যান্ড এবং একটি মানবাধিকার সংস্থা। ইচ্ছা শক্তি আর অদম্য জেদ যে অসাধ্য সাধন করতে পারে বীরভূমের দুই নারী তার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। শান্তিনিকেতনের বাসিন্দা পারমিতা দত্তরায় মাত্র ছয় মাসের কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়েই পরিবার ও সমাজের ভ্রুকুটিকে তুচ্ছ করেই শুরু করেছিলেন এক অন্য লড়াই।

যে লড়াই এর অভিঘাতে আজ তছনছ হয়ে গেছে সমাজের যাবতীয় বেড়াজাল। এভাবেও ফিরে আসা যায়? পারমিতার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল অল্প বয়সেই। যে বয়সে নিজেকে নিয়ে সবার অনেক স্বপ্ন থাকে সেই বয়সে বিয়ে হলেও নিজের স্বপ্নকে মরতে দেননি তিনি। তিনি জানতেন সুযোগ একদিন আসবেই। সেই সুযোগ যখন এল তখন তিনি একটি কন্যা সন্তানের মা। তাতে কি? মেরি কমের ইচ্ছাশক্তির কাছেও তো হার মেনেছে যাবতীয় বাধা। তাই মেরি কমকেই আদর্শ করে তিনি শুরু করলেন তাঁর যাত্রা। পথ দুর্গম হলেও তিনি লক্ষ্যে পৌঁছানোর সংকল্প নিয়েছিলেন।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

২০১৮ সালের সেই যাত্রা পথে অনেক চড়াই উত্‍রাই পেরিয়ে বীরভূমের পারমিতা আজ বীরভূমীর সোনার মেয়ে। বিয়ের পর বিশেষ করে যে বয়সে ক্যারাটে শেখার কথা কেউ চিন্তাও করে না সেই বয়সে ছয় মাসের কন্যা সন্তানকে সাথে নিয়েই শুরু করেছিলেন ক্যারাটের রিং এর ভেতরের লড়াই। এই লড়াই জেলা স্তরে সিলভার ও ব্রোঞ্জ পদকের পর চলতি বছরে রাজ্য স্তরের প্রতিযোগীতায় তাঁকে এনে দিয়েছে সোনা। পেয়ে গেছেন জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ। নভেম্বরেই জাতীয় স্তরের প্রতিযোগীতায় খেলার জন্য পারমিতা রওনা দিচ্ছেন সিকিমের রাজিধানী গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। আগামী বছর রাশিয়ায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার যোগ্যতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগিয়ে চলেছেন বলে জানিয়েছেন পারমিতা।

অন্যদিকে, বীরভূম তথা বর্তমানে হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরের বাসিন্দা আরএক ক্যারাটে কন্যা জাহ্নবী ভট্টাচার্য তিনিও তাঁর দশ বছরের মেয়েকে সাথে নিয়েই রওনা দিচ্ছেন গ্যাংটকের উদ্দেশ্যে। জাহ্নবীও তাঁর মেয়ে এবং পরিবার সামলে খেলাধুলার জগতে পা রেখেছেন। তিনি বলেন বয়সটা ছত্রিশ বছর হলেও সেটা একটা সংখ্যা মাত্র। ইচ্ছা থাকলে সব কিছুই সম্ভব। আসল হল ইচ্ছা।

এই ইচ্ছা শক্তির জোরেই জাহ্নবী রাজ্য স্তরের প্রতিযোগীতায় জিতে নিয়েছেন সিলভার পদক। বোলপুরের আরএক বাসিন্দা প্রিয়াঙ্কা মূর্মূ রাজ্য প্রতিযোগীতায় পেয়েছেন সোনা। এবার এই তিন সোনার মেয়ের হাতে নারী শক্তি সম্মান তুলে দিল দুই সংস্থা। শান্তিনিকেতনের রোটারি ক্লাব অফ টেগোরল্যান্ড এবং ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইউনিটি এন্ড ক্রাইম কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন। রোটারির তরফে একটি সান্ধ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনজনের হাতে মানপত্র তুলে দেওয়া হয়। সর্বতোভাবে তাদের পাশে থাকার বার্তা দেয় রোটারি ক্লাব অফ টেগোরল্যান্ড। অন্যদিকে বোলপুরের লায়েক বাজারে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাতে মানপত্র, মেমেন্টো, ফুলের তোড়া তুলে দেওয়া হয়। তাদের উত্তরীয় পরিয়ে বরন করে নেন সংস্থার সম্পাদিকা রূপা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কার প্রাপ্ত এক টাকার ডাক্তারবাবু নামে পরিচিত বীরভূমের গর্ব ডাক্তার সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, নারী শক্তির ক্ষমতায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নারীরা যেন কোথাও নিগৃহীত না হয়।

সংস্থার সম্পাদিকা বলেন, নারীরা নিজের দোষেই বেশী নিগৃহীত হয়। আমরা দুর্বল এটা ভাবা আগে বন্ধ করুক নারীরা। এই তিন ক্যারাটে কন্যা আমাদের বীরভূমের গর্ব। আগামীদিনে এদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সবাই এগিয়ে আসুক। এরাও দায়িত্ব তুলে নিক নারী শক্তির সশক্তিকরনে। তিন ক্যারাটে কন্যার প্রশিক্ষক কৌশভ সান্যাল বলেন, ওদের ওপর আমার ভরসা আছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে খেলার সুযোগ ওরা নিজেদের যোগ্যতায় ঠিক অর্জন করবে। ওদের যাত্রাপথ ওরা নিজেরাই তৈরি করে নেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

15 − 11 =