আভিজাত্যের সঙ্গে বনেদিয়ানার মিশেলে ৯৭ বছর ধরে ফানুস ওড়ানো হয় উত্তর কলকাতার ভোলানাথ ধাম এ

ছবি-রজত দাঁ
This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

সুদীপ চন্দ:   আভিজাত্যের সঙ্গে বনেদিয়ানার মিশেলে সেই আদিকাল থেকেই ‘চিনে’ আকাশ লণ্ঠন ঢুকে পড়েছে বাঙালির অন্দরমহলে। কালীপুজো মানেই সাঁঝের আকাশে ভেসে বেড়ানো একের পর এক বাতি। কখনও বা ঠিক সন্ধ্যা নামার আগে গোধূলির আলোয় ধরা পড়ে পেল্লায় ফুটবল বা তারা, কিংবা রঙিন কেটলি বা চায়ের কাপ।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

কালীপুজোয় শব্দবাজির কান ফাটানো আওয়াজ নেই, বিষ-ধোঁয়ায় হাঁসফাঁসের কষ্টও নেই, আতসবাজির বাজারে নিরীহ ফানুসই মনে ধরেছিল আম বাঙালির। শহরের বুকে কিছু মানুষ এখনও পরম যত্নে আগলে রেখেছেন এই পুরনো ঐতিহ্যকে। নব প্রজন্মও ভালবেসেছে এই রেওয়াজকে। ঊনবিংশ শতকের বনেদি বাঙালির বাবুয়ানা প্রদর্শনের বিষয়টা ছিল অনেকটাই অন্যরকম। এর মধ্যে ব্যতিক্রমী চাকচিক্য ছিল পুজোর সন্ধ্যায় ফানুস প্রদর্শন।

শোনা যায় এক দৈত্যাকার ফানুস প্রথম ওড়ানো হয় ১৯২০ সালে উত্তর কলকাতার নীলমনিমিত্র স্ট্রিটের গোবিন্দচন্দ্র দে – এর বাড়ি থেকে এবং ১৯২৫ সাল থেকে বিডন স্ট্রিটের দত্ত বাড়িতে কালীপুজোর দিন ফানুস ওড়ানোর রেওয়াজ শুরু হয়ে যায়। প্রথা মেনে এর পর থেকে কালীপুজোর বিকেলে সব বাড়ি থেকে একই সময় একসাথে ওড়ানো শুরু হয় ফানুস। একটা সময় বিদেশ থেকে আনানো হত ফানুস তৈরির উপকরণ।

কালীপুজোর দিন দশেক আগে থেকে ফানুস বানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। তুলোর বল অথবা নুটি তৈরি করে ডুবিয়ে রাখা হতো স্পিরিটে। কালীপুজোর দিন বিকেলে পরিবারের সকলের উপস্থিতিতে ফানুসে হাওয়া দিয়ে ফুলিয়ে নুটি বেঁধে তাতে আগুন ধরিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হত আকাশে। মানুষের রুচিতে বদল এসেছে।

 

বিডন স্ট্রিটের ভোলানাথ ধামের দত্ত পরিবারের বর্ষীয়ান সদস্য অজয় দত্ত বলছেন, কালের নিয়মে দত্ত বাড়িতেও এখন ফানুস তৈরির লোকবলের বেশ অভাব। বাড়ির তরুণ প্রজন্মের বেশির ভাগই নিজেদের জীবন-জীবিকা নিয়ে ব্যস্ত। পুরনো সংস্কৃতি ধরে রাখার মতো সময়, ধৈর্য্য, অর্থ ও মনসিকতা আর আজ আর নেই।

অজয়বাবু বলছেন, ৯৭ বছর ধরে বজায় রেখে চলেছেন এই সংস্কৃতি। ছোটবেলায় বাবার কাছেই ফানুস তৈরিতে হাতেখড়ি। তারপর এই রীতি চলছেই। একটা বছরের জন্যও এর অন্যথা হয়নি। ভবিষ্যত প্রজন্মও এ সংস্কার ধরে রাখুন, এমনটাই চান বিডন স্ট্রিটের দত্ত পরিবার। বাজি নিয়ে কড়াক়়ড়ির সময়ে বাঙালি বাজি ভুলে আরও মেতে উঠুক এই সাঁঝবাতিতেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

thirteen + 1 =