শুধু প্রার্থনায় কাজ হয় না, কোহলি-শাস্ত্রী যুগের শেষ, সংবাদমাধ্যমে ভারতের বিদায়ের সু্র বাজছে

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী : ২০১৩ সালের পর কোনো আইসিসির টুর্নামেন্টে সেমিফাইনালের আগে বাদ পড়ল। তা-ও এমন এক টুর্নামেন্টে, যেখানে ভারত গেছে সম্ভাব্য শিরোপাজয়ী হিসেবে। এমন বিদায়ের পর ভারতের সংবাদমাধ্যমে অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সিনিয়র ব্যাটসম্যান রোহিত শর্মা কিংবা ভারতীয় দলের কোচ রবি শাস্ত্রীর সমালোচনা হওয়ারই কথা। তবে এবার ভারতের সংবাদমাধ্যমে সমালোচনার সুর কিছুটা পরিমিতই!

ভারতের গ্রুপ পর্বেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম গুলোতে উঠে এসেছে কোহলিদের নিয়ে
বিদায়ের বেদনা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস শিরোনামে লিখেছে, ‘শুধু প্রার্থনায় কাজ হয় না’। দ্য হিন্দু তাদের শিরোনামে লিখেছে, ‘কোহলি-শাস্ত্রী যুগের শেষ’।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

এদিকে আফগানিস্তান-নিউজিল্যান্ডেম্যাচের প্রতিবেদনে ভারতের বিদায়ের খবর জানাতে গিয়ে সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনই নিজেদের ওয়েবসাইটে তুলে দিয়েছে দ্য হিন্দু, এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়ার মতো সংবাদমাধ্যম। সেখানে লেখা, ‘ভারতের আশা টিকে ছিল আফগানিস্তানের ব্ল্যাক ক্যাপদের (নিউজিল্যান্ড) হারানোর ওপর। সেটা হলে নেট রানরেট সামনে চলে আসত, বিরাট কোহলির দলের জন্য সেমিফাইনালে যাওয়ার দরজা খুলে যেত। কিন্তু এভাবে বাদ পড়ার পেছনে কোহলির দল এখন শুধু নিজেদেরই দুষতে পারে।

ভারতের প্রথম দুই ম্যাচে হার নিয়েই আক্ষেপ ঝরেছে পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে, ‘দলটা সুপার টুয়েলভে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের কাছে ধাক্কা খেয়েছে, যেটা শেষ পর্যন্ত ভারতের ভাগ্য লিখে দিয়েছে। আফগানিস্তান ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে দলটা ফিরে এসেছে ঠিকই, কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে হারের ক্ষতিটা অনেক বেশিই প্রমাণিত হলো।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে আফগানিস্তানের ম্যাচে ভারতের ভাগ্য জড়ানো জেনেও যে এ ম্যাচে ভারতীয় দর্শকের সংখ্যা একেবারে হাতেগোনা ছিল, সেটিও প্রতিবেদনে তুলে এনেছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ইঙ্গিত, ভারতের দর্শকেরা আসলেই বাস্তবে আফগানিস্তানের কাছে নিউজিল্যান্ডের হার কল্পনা করেননি।

ভারতের আরেক দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস লিখেছে, ‘ভারতের জন্য সব শেষ হয়ে গেল। টুর্নামেন্টের আগে যারা ফেবারিট ছিল, তারাই সেমিফাইনালের দৌড় থেকে বাদ।’ আফগানিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের তিন দলেরই ভাগ্য এ ম্যাচে জড়িয়ে ছিল জানিয়ে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘ভারত ছিল এখানে তৃতীয় দল, যারা প্রতিবেশীদের ওপর ভরসা করেছিল, যাতে তারা (আফগানিস্তান) নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতের সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখে।’

দ্য হিন্দু ভারতের ব্যর্থতার কাটাছেঁড়াও করেছে, ‘একটা যুগের শেষ’ প্রতিবেদনে কোহলি ও শাস্ত্রী এখন শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় চাইবেন, লিখলেও ঘুরেফিরে টুর্নামেন্টে ভারত কোন কোন জায়গায় ব্যর্থ হয়েছে, সেগুলো তুলে ধরেছে তারা। তবে আগামীকাল নামিবিয়ার বিপক্ষে সেই ম্যাচও দ্য হিন্দুর চোখে, ‘১৯৯২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে বাদ পড়ার পর লিগ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের পর আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে এত অর্থহীন ম্যাচ আর খেলেনি ভারত।’

শাস্ত্রী ও কোহেলির এই দুজনের শেষটা এত বাজে হওয়ার পেছনে দ্য হিন্দুর চোখে কারণগুলো হচ্ছে, ‘কয়েকটা বিষয় এমন হতশ্রী বিদায়ের কারণ। কোহলির বাজে অধিনায়কত্ব এবং দল নির্বাচন যদি একটা কারণ হয়ে থাকে, সেটি আরও জটিল হয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার মতো খেলোয়াড় জাতীয় দলের নির্বাচকদের কাছে নিজের ফিটনেসের সবকিছু খোলাখুলিভাবে না বলায়।’

কোহলির ব্যাটিংয়েরও সমালোচনা করেছে দ্য হিন্দু, ‘কোহলি শুধু টেস্টের অধিনায়ক হিসেবেই থাকবে কি না, নিশ্চিত নয়। তবে গত চারটি আইসিসি টুর্নামেন্টে তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে হতাশা থাকছেই। তাঁর বয়স মধ্য ৩০–এ চলে যাচ্ছে, তাঁর ব্যাটিংয়ে কিছুটা রক্ষণাত্মক ভাব এসে গেছে। আরেকটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১১ মাস বাকি, ভারত এখান থেকে নতুন করে, নতুন ভাবনায় শুরু করবে, এটাই আশা করতে পারে ভারতীয়রা।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

18 + 16 =