৭ শিক্ষিকার করোনার সংক্রমণে বন্ধ বীরভূমের স্কুল, চিন্তিত অবিভাবকেরা

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

নিশির কুমার হাজরা, বীরভূম : করোনা আবহে দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার পর সংক্রমণ কমতেই নভেম্বর মাসের ১৬ তারিখ পুনরায় খুলে দেওয়া হয় স্কুলের দরজা। তবে এই স্কুল খুলতে না খুলতেই বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর আসতে শুরু করে।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

 

তবে এবার বীরভূমের একটি স্কুলে একসঙ্গে এত জন শিক্ষিকা করোনা আক্রান্ত হলেন যা চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা! বীরভূমের নানুর ব্লকের অন্তর্গত নানুরের টি কে এম বালিকা বিদ্যালয়ে একসঙ্গে সাত জন শিক্ষিকা করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে । একসঙ্গে এত সংখ্যক শিক্ষিকা করোনা আক্রান্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল পরিচালন কমিটি। এর পাশাপাশি আগামী দিনে প্রতিটি ছাত্রী এবং শিক্ষিকার করোনা পরীক্ষা করার পরেই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন ।

সূত্রের খবর , মোট আট থেকে নয় জন শিক্ষিকা বিভিন্ন জায়গা থেকে বোলপুরে একত্রিত হয়ে তারপর সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে স্কুলে আসতেন। ওই শিক্ষিকাদের মধ্যে একজন হঠাত্‍ দিন কয়েক আগে অসুস্থ বোধ করেন। তারপর তিনি নিজের উদ্যোগে বোলপুরে করোনা পরীক্ষা করান। তার পরীক্ষার ফলাফল পজেটিভ আসতেই তার সঙ্গী শিক্ষিকাদের পরীক্ষা করানো শুরু হয়। এরপরেই মোট সাত জনের পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসে বলে জানা গিয়েছে ।

ওই স্কুলের স্কুল পরিচালন কমিটির সভাপতি সুব্রত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “এক শিক্ষিকা প্রথম অসুস্থ বোধ করলে তিনি নিজে করোনা পরীক্ষা করান এবং তার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তারপর বাকিদের পরীক্ষা করানো হয় এবং মোট সাতজন শিক্ষিকা পজিটিভ হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার থেকেই স্কুল বন্ধ রয়েছে। স্কুলে আগত ছাত্রীদের পরীক্ষা করার পরে এবং আক্রান্ত শিক্ষিকাদের পাঁচদিন পর পরীক্ষা করার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে স্কুল খোলা হবে।”

অন্যদিকে নানুর ব্লক প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর স্কুল স্যানিটাইজ থেকে শুরু করে সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কোনরকম ঝুঁকি না নিয়ে স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তী ফলাফল দেখেই স্কুল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই সংক্রমণের সংবাদ পেয়ে এলাকায় সমস্ত অবিভাবকেরা যথেষ্ট চিন্তায় পড়েছেন। বীরভূম জেলার সচেতন সমস্ত মানুষের টিকাকরণ ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ হলেও কেন ফের সংক্রমণ শুরু হল। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন. সংক্রমণের হার কমলেও সম্ভাবনা এখনও যায় নি। তাই মানুষ যদি করোনা বিধিনিষেধ এড়িয়ে চলেন. তাহলে ফের সংক্রমণ হতে পারে। তাই প্রত্যেক মানুষের সামাজিক দূরত্ব বিধি ও মাস্ক এর ব্যবহার এখনও জরুরি রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

five × 2 =