ফুটবল ঈশ্বরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল সারা বিশ্ব

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী: বৃহস্পতিবার ২৫ নভেম্বর কিংবদন্তী ফুটবলার দিয়াগো মারাদোনার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী স্মরণ করল সারা বিশ্ব। ২০২০ সালের এই দিনে সমর্থকদের কান্নায় ভাসিয়ে চিরবিদায় নিয়ে ছিলেন ফুটবল ঈশ্বর। এই দিনটি গভীর শ্রদ্ধায় তাঁকে স্মরণ করেছে ফুটবল বিশ্ব। আর্জেন্টিনা ও নাপোলিতে ছিল নানা আয়োজন।

সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন, দিয়াগো আরমান্ডো মারাদোনা। তাঁর মৃত্যু সংবাদ থমকে দিয়েছিল ফুটবল বিশ্বকে। ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই ফুটবল জাদুকর। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৬০ বছর বয়সে পৃথিবী ছাড়েন ফুটবল ঈশ্বর। মৃত্যুর প্রথম বর্ষপূর্তিতে কিংবদন্তী ফুটবলারকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে বিশ্ব।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

১৯৮৬ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেন মারাদোনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে প্রথম গোলটি ‘হ্যান্ড অব গোল’ হিসেবে পরিচিত।.ওই ম্যাচেই ৬ ব্রিটিশ ফুটবলারকে পরাস্ত করে করা তার দ্বিতীয় গোলটি পরিচিত হয়েছে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরী’ নামে। ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপেও নীল-সাদাদের ফাইনালে তোলেন তিনি। দেশের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৩৪ গোল করেছেন এই ফুটবল জাদুকর। ২০০৮ সালে আর্জেন্টিনার ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন মারাদোনা। ২০১০ বিশ্বকাপে তার কোচিংয়েই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে মেসিরা।

লিওনেল মেসি জানান, অনেক বছর পর আমরা কোপা আমেরিকা জিতেছি। কিন্তু মারাদোনা দেখেন নি। ভাবতে অবাক লাগে, তিনি নেই এক বছর হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে যেন কালই হারিয়েছি। তার সাথে সেরা মুহূর্ত কাটানোর সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হয়। দেশ ও ক্লাবের জন্য তার অবদান ভোলেনি ভক্ত সমর্থকরা। তাঁর স্মরণে আর্জেন্টিনার বিভিন্ন শহরে আঁকা হয়েছে ম্যুরাল ও দেয়ালচিত্র। এক মারাদোনা ভক্ত মারাদোনার মুখচিত্র আকেন। ওই ভক্ত জানান, তিনি দেশের জন্য অনেক কিছু করেছেন, গরীব প্রতিবেশিদের বন্ধু ছিল। একের ভেতরে অনেক ছিলেন মারাদোনা। তাকে অমর করে রাখতেই দেয়ালজুড়ে তার প্রতিকৃতি আঁকা হয়েছে।

ক্লাব ফুটবলে মারাদোনার সেরা সময় কেটেছে ইতালির নাপোলিতে। ১৯৮৭ ও ১৯৯০ সালে সিরি আ শিরোপা জেতেন মারাদোনা। এছাড়াও ১৯৮৯ উয়েফা কাপও আসে তার হাত ধরেই। প্রিয় তারকার প্রয়াণ দিবসকে নানাভাবে পালন করেছে নেপলসবাসী। স্টেডিয়ামের সামনে বসানো হয়েছে পূর্ণ আকৃতির ব্রোঞ্জমূর্তি। বিশ্ব ফুটবলের এই কিংবদন্তির মৃত্যুর পরও নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক জন্ম দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য হৃৎপিণ্ড ছাড়াই কবর দেওয়া হয়েছিল ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে।

উল্লেখ্য, কী কারণে ম্যারাডোনার মৃত্যু হয়েছিল সেটার অপরাধ তদন্ত চলছে তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ডাক্তারের বিরুদ্ধে।বিশৃঙ্খল জীবনযাপন বিভিন্ন সময় খবরের শিরোনাম হয়েছেন এই কিংবদন্তী। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে বিস্ময়কর ফুটবল দক্ষতা দিয়ে আজীবন ভক্ত হৃদয়ে থেকে যাবেন দিয়াগো আর্মান্দো মারাদোনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

5 × two =