ক্রিসমাস ডে- কে বাংলায় বড়দিন হিসেবে কেন অভিহিত করা হয়

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী: আমাদের মাঝে বছর ঘুরে আবার এলো ক্রিসমাস ডে তথা বড়দিন। সারাবিশ্বে নানা আদলে যীশুর এই শুভ জন্মদিন উদযাপিত হয়ে থাকে। ভারতের খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিটি মানুষ তাদের বাড়ির ছাদে এদিনের আকাশে মিটমিট করে না জ্বলে থাকা তারার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বড়দিনের আগমনী বার্তা জানিয়ে দেয়। শিশুদের প্রিয় ব্যক্তিত্ব সান্তা ক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি কেক উন্নত মানের খাবার আনন্দের পরিধি বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ । একইসঙ্গে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সাজগোজ করে প্রার্থনার জন্য গির্জায় গমনাগমনও প্রাণিধানযোগ্য।

এখানে একটা কথা স্বভাবতই উঠে আসে, যীশুর শুভ জন্মদিনটিকে. এই বাংলায় বড়দিন হিসেবে কেন অভিহিত করা হয়। আসলে সময়ের দিক দিয়ে ২৫ ডিসেম্বর ছোট দিনের মধ্যে অন্যতম। মূলত বাংলা ভাষায় বড় বলতে সাধারণের চেয়ে অধিক কিছু বুঝিয়ে থাকে। এখানে সময় নয়, বড় বলতে এর নিগুঢ় রহস্য সংবলিত তাৎপর্য বিবেচনায় আনা হয়েছে। কেননা এটি এমন একদিন যাতে রয়েছে মূল্যবোধের আতিশয্য। দুই হাজার বেথলেহেমের গোয়াল ঘরে নবজাতক যীশু খ্রীষ্টকে ঘিরে ছিল রাখাল সহ কিছু অজ্ঞ ও কুসংস্কারছন্ন মানুষ। আর সেই অজ্ঞ মানুষের বেড়াজাল ছিড়ে যীশুর দর্শন আজ সারা বিশ্বে সবিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

মূলত যিশুখ্রিস্টের জন্ম তিথি কে ঘিরে আনন্দঘন উৎসবকে কেন্দ্র করেই বড়দিন পালন করা হয়ে থাকে। ইতিহাস থেকে যতদূর জানা যায়, তাতে প্রতিভাত হয়। ৩০৫ খ্রিস্টাব্দে পূর্বাব্দে বড়দিন পালনের জন্য কোনও সুনির্দিষ্ট দিন বা তারিখ ছিল না। তবে দিনটির তাৎপর্য বা গুরুত্ব তখনও বিদ্যমান ছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পালনের রেওয়াজ প্রবর্তিত হওয়ার আগে রোমানরা সূর্য দেবতা কেই পূজার্চনা করত। আর এজন্য রোমানবাসী তখন আওরলিয়ানরা একটি মন্দির নির্মাণ করে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে অর্চনা করার প্রাক্কালে তারা বিশ্বাস করতো যে, এই দেবতাই তাদের দেশ ও জাতির রক্ষাকর্তা। এই পূজা অনুষ্ঠিত হতো ২৫ ডিসেম্বর। আর ওই দিনটিতে তৎকালীন সময়ে কোনও কোনও স্থানে যিশুখ্রিস্টের জন্মোৎসব
পালন করা হত। সম্ভবত এ প্রেক্ষাপটে ধীরে ধীরে যিশুখ্রিস্টের জন্ম উৎসব পালনে এই দিবসটিতে স্পষ্টতর হতে থাকে । এতদ্ব্যতীয় দিন, তারিখ বা সাল হিসেবে যদি গণনা করা হয়, তবে প্রতীয়মান হয় যে, বড়দিন সর্বপ্রথম পালন করা হয়েছিল রোম শহরে ৩০৫ খ্রিস্টাব্দের দিকে। তৎপর ক্রমে ক্রমে খ্রিস্টের জন্মোৎসব বিভিন্ন দেশে সর্বিশেষ আঙ্গিকে পালিত হতে থাকে।

এদিকে খ্রিস্টের জন্মোৎসব ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বপ্রথম পালিত হয়েছিল ষোড়স শতকে আগত কিছু পর্তুগিজ যাজকের সুবাদে। অপর পর্তুগিজ মিশনারিজ এর মাধ্যমে এতদাঞ্চলের লোকেরা ধর্মান্তরিত হতে থাকলে ধীরে ধীরে একটি খ্রিস্টীয় গোষ্ঠীর সৃষ্টি হয়। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য, বাংলায় খ্রীষ্ট ধর্মীয় কর্মকান্ডে প্রধান ভূমিকা পালন করে অগাস্টিনিয়ানরা। তারা ১৫৯৯ সালে হুগলিতে একটি গির্জা স্থাপন করে। সেখান থেকে সারা বাংলায় এই ধর্ম প্রচার করত । তবে তৎকালীন সময়ে দেশের খ্রিস্টীয় ভক্তরা কিভাবে বড়দিন উদযাপন করত, সে সম্পর্কে সঠিকভাবে জ্ঞাত না হওয়া গেলেও যতদূর জানা যায় তারা পর্তুগীজদের প্রথা নুসারে ‘নাতাল’ বা ‘বড়দিন’ উৎসব পালন করত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

nine + eight =