কেন ফিফা ২ বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাইছে?

This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী: পরপর দু’বছর অন্তর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাইছে ফিফা, কিন্তু এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক। এ পরিকল্পনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ফুটবল বিশ্ব। এদিকে ফিফার কিছু সদস্যদেশ প্রস্তাবটিকে সাধুবাদ জানালেও এর বিপক্ষে একটা বড় অংশ অবস্থান করছে। আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন, যাদের অধীন ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের মধ্যে ৫৪টি আছে, তারা তো এ পরিকল্পনায় সমর্থন জানিয়ে দিয়েছে। ফিফার এমন পরিকল্পনায় এশিয়ার অনেক দেশও সমর্থন জানাচ্ছে। তবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলো এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। বিশেষ করে ইউরোপের বিভিন্ন লিগ আর ক্লাবের সমর্থকগোষ্ঠী কোনোভাবেই দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হোক, এটা তারা চাইছে না।

আর এর মধ্যেই ফিফা সোমবার অর্থাৎ ২০/১২/২১ তারিখে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি অনলাইন সম্মেলনে বসেছিল। তবে এ নিয়ে এখনো কোন খবর সামনে আসেনি। এর আগে বার্তা সংস্থা এএফপি স্পোর্ট ফিফার পরিকল্পনার কারণ অনুসন্ধান করেছে। একই সঙ্গে দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ হলে খেলোয়াড়দের ওপর কতটা চাপ পড়বে এবং তাঁদের চোটে পড়ার ঝুঁকি কতটা বাড়বে, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখেছে। এএফপি স্পোর্ট কী পেয়েছে, একটু দেখে নেওয়া যাক।

This news is sponsored by STP Tax Consultant

বছর অন্তর বিশ্বকাপ, এ নিয়ে ফিফার এত আগ্রহের কারণ কী?
ফিফার মূল যুক্তি হচ্ছে তাদের আয় বাড়বে। আর বাড়তি সেই আয় আফ্রিকা, এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যাবে। বিত্তবান ইউরোপিয়ান লিগগুলোর চেয়ে ফিফার তহবিলের ওপর অনেকটাই বেশি নির্ভরশীল এ অঞ্চলের ফুটবল।

এ ছাড়া ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ‘ফুটবলকে সত্যিকার অর্থে বৈশ্বিক’ করে তুলতে চান এবং ছোট দলগুলোর জন্য টুর্নামেন্টটি আরও উন্মুক্ত করতে চান। এ কারণেই ২০২৬ সাল থেকে বিশ্বকাপ ৪৮ দলের করতে যাচ্ছে ফিফা। ইউরোপ আর দক্ষিণ আমেরিকার বাইরে এখন পর্যন্ত কোনো দেশ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলতে পারেনি। আগামী বছরের বিশ্বকাপ হবে কাতারে। এর আগের ২১টি বিশ্বকাপের ১৬টিই আয়োজন করেছেন উয়েফা ও কনমেবলের সদস্যদেশগুলো। ইনফান্তিনো শুধু বেশি বিশ্বকাপই চান না, বেশি যৌথ আয়োজকও চান।

ফিফাকে কোন ফেডারেশনগুলো সমর্থন জানাচ্ছে:
ফিফার পরিকল্পনায় গত মাসে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে আফ্রিকার ফুটবল কনফেডারেশন। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলোর ফেডারেশন আর এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন বলেছে, এ পরিকল্পনা নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই। ওশেনিয়া অঞ্চলের মতামতও একই।
আগামী বছর কাতার বিশ্বকাপে জায়গা পেয়েছে আফ্রিকার মাত্র পাঁচটি দেশ। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব উতরাতে না পারা আফ্রিকার দেশ আইভরিকোস্টের কোচ প্যাট্রিক বুমেলে তো বলেই ফেলেছেন, ‘ফিফা আফ্রিকার ফুটবলকে মেরে ফেলছে।’ কনকাকাফের কর্মকর্তারা গত সেপ্টেম্বরে বলেছেন, ফিফাকে তাঁরা পুরুষ ও নারী এবং যুব ফুটবলে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেবেন। এতে বৈশ্বিকভাবে আরও ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গঠিত হবে।

দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ অন্য টুর্নামেন্টে কী প্রভাব ফেলবে:

ফিফার বৈশ্বিক উন্নয়ন বিভাগের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিবছরই অন্তত একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। বিশ্বকাপের পাশাপাশি থাকবে মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলো। এই যেমন ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও কোপা আমেরিকা। অক্টোবর বা অক্টোবর ও মার্চে বাছাইপর্বের ম্যাচগুলো আয়োজন করলে প্রতিবছর অন্তত একটি করে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনের সময় পাওয়া যাবে বলেই মনে করেন ওয়েঙ্গার। কিন্তু ছেলেদের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট বেশি বেশি আয়োজন করলে মেয়েদের ফুটবল থেকে মনোযোগটা সরে যেতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই।

কেমন প্রভাব পড়বে ফুটবলারদের ওপর:

এভাবে বেশি বেশি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে ফুটবলারদের ওপর তীব্র চাপ তৈরি হবে, এমন যুক্তি মানতে নারাজ ওয়েঙ্গার। তাঁর কথা, দেশের হয়ে গ্রীষ্মের টুর্নামেন্ট খেলার পর বিশ্রাম নেওয়ার জন্য কমপক্ষে ২৫ দিন সময় পাবেন খেলোয়াড়েরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

20 − eighteen =