অরণ্যের দিনরাত্রির টানে গোটা একটা দিন কাটিয়ে আসতে পারেন বেথুয়াডহরী থেকে

ছবি-সংগৃহীত
This News is Presented by Shyam Sundar Jewellers

শান্তি রায়চৌধুরী : সোঁদা মাটির গন্ধ ছুঁয়ে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যেতে চান? কিংবা সবুজ বনানী ঘেরা অরণ্যের কোলে দাঁড়িয়ে প্রাণের অপরূপ দৃশ্য অবলোকনের ইচ্ছে আছে? তাহলে চলে আসুন বাংলার বেথুয়াডহরী অভয়ারণ্যে। শহর কলকাতার কাছেই, কম খরচে ঘুরে আসতেই পারেন বেথুয়াডহরী অভয়ারণ্য থেকে।

 

This news is sponsored by STP Tax Consultant

 

কলকাতার পাশে নদীয়া জেলায় অবস্থিত এই অভয়ারণ্য। প্রায় ১৬৭ একর জমিজুড়ে রয়েছে এই বেথুয়াডহরী অভয়ারণ্য, যেখানে বন্যপ্রাণী এবং নাম না জানা হরেক প্রজাতির গাছের মাঝে কাটিয়ে আসুন একান্তে নিরিবিলি একমুঠো অবসর; যেখানে শাল, সেগুন, পিয়াল, তমাল, মেহগনি, অর্জুন আর নাগকেশর গাছ আর হরেক প্রজাতির গুল্ম মিলে সবুজ করে দেবে আপনার অবসর যাপন। জানা-অজানা হরেক প্রজাতির পাখির ডাক ভুলিয়ে দেবে আপনার শহুরে সত্তাকে।

বেথুয়াডহরী অভয়ারণ্যে এলে দেখতে পাবেন হরিণ। চিতল হরিণ এই অরণ্যের অন্যতম আকর্ষণ। এ ছাড়া এখানে রয়েছে বনবিড়াল, খরগোশ, ময়ূর, ঘড়িয়াল, পাইথন, শুয়োর প্রভৃতি বন্যপ্রাণী। কথিত আছে, বেথুয়া একটি শাকের নাম, আর ডহরী মানে জলাশয়। একসময় বেথুতা শাকের জলাশয় ছিল এই স্থান। সেই থেকে নামকরণ হয়েছে বেথুয়াডহরী। এই অরণ্যের মধ্যে রয়েছে দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের নামাঙ্কিত মিউজিয়াম। এ ছাড়া প্রাণী সংরক্ষণ সম্পর্কিত নানা তথ্য জানা যাবে এখান থেকে।

এই অরণ্যের বনবাংলোয় থাকলে অনায়াসে দেখতে পাবেন হরিণ। সন্ধ্যায় বনবাংলোর আশপাশে চলে আসে হরিণের দল। উপরি পাওনা হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখতে পাবেন তাদের। এখানে সেলিম আলি সাহেবের নামে রয়েছে একটি রাস্তা, যে রাস্তার পাশে বিরাট খাঁচার মধ্যে রয়েছে ময়ূর, খরগোশ, নীলগাই এবং নানা রং-বেরংয়ের বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। এখানে দেখে নিতে পারেন ঘড়িয়াল পুকুর। যেখানে অখণ্ড অবসরে রোদ পোহায় ঘড়িয়ালের দল। এখানেই দেখা মিলবে কচ্ছপের। বনের সবুজ পথে পা বাড়ালে দেখা পাবেন নানা রঙের ডানায় উড়ে চলা নানা রকমের প্রজাপতি। দেখা পাবেন রংবাহারি নানা পাখিও।

কীভাবে যাবেন:
কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে লালগোলাগামী ট্রেনে করে পৌঁছে যাবেন বেথুয়াডহরী। সময় লাগবে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা। এ ছাড়া কলকাতার এসপ্ল্যানেড থেকেও বাসে করে যাওয়া যায় বেথুয়াডহরী। আর প্রাইভেট গাড়িতে করেও যেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কৃষ্ণনগর হয়ে পৌঁছে যাবেন বেথুয়াডহরী।

কোথায় থাকবেন:
ডব্লিউএসএফডির কটেজ আছে জঙ্গলের মধ্যে। রয়েছে বেদুইন যাত্রীনিবাস। তবে যাওয়ার আগে বুক করে নিন থাকার জায়গা। বুক করুন ডালহাউসির ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম অফিস থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

twenty + nine =